ইমেইল : info@crime-flash.com



» শীর্ষ খবর

Tuesday 02nd of August 2016 অ- অ+

'বঙ্গবন্ধুকে যারা হত্যা করেছিল তারা এদেশের স্বাধীনতা চায়নি'

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জঙ্গিবিরোধী অভিযানে সারাদেশে যারাই ধরা পড়ছে তাদের অনেকেই বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত।

সোমবার বিকেলে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু জাদুঘরের সামনে বাংলাদেশ কৃষক লীগ আয়োজিত শোকাবহ আগস্টের আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেছিল তারা এদেশের স্বাধীনতা চায়নি।

তিনি বলেছেন, আমি ফিরে আসার পরে আমাকে এ বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এ বাড়িতে আমার বাবা-মা মারা গেছেন। আমি মিলাদ পড়বো, জিয়াউর রহমান সেখানে যেতে দেয়নি। রাস্তার ওপর বসেই শত বাধা অতিক্রম করে মিলাদ পড়তে হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়েছে। এভাবেই হত্যার ষড়যন্ত্র ও খুনিদের মদদ দিয়েছে তারা। জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ ছিলো, তাদের নতুন করে দল গঠন করে রাজনীতির সুযোগ দিয়েছিলো এরশাদ।

‘হাইকোর্টের রায়ে জিয়া, এরশাদের ক্ষমতা দখল অবৈধ। সেই সময় পরাজিত শ্রেণীর দোসররা বারবার আঘাত হেনেছে। এখনও তাদের উত্তরাধিকারীরাই বারবার আঘাত করছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা দুই বোন সব হারা হয়ে যাবো কখনও কল্পনাও করতে পারিনি। পরবর্তীতে বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসায় দেশে ফিরি। কিন্তু ততোক্ষণে তাদের কাউকে দেখিনি।

তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার হয়েছে, যুদ্ধাপরাধী-পরাজিত শক্তি, তাদের বিচার হচ্ছে, রায় আমরা কার্যকর করে যাচ্ছি। বাংলাদেশ অভিশাপ মুক্ত হচ্ছে।

“তারপরও এদের প্রেতাত্মারা, এদের সন্তান-সন্ততি অনেকেই রয়ে গেছে। তারা এখনো বাংলার মানুষের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।”

বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে বিভিন্ন সময় ষড়যন্ত্রকারীদের উৎসাহ যোগানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের ক্ষমতায় বসানো, বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে এবং বিচারের হাত থেকে অব্যাহতি দেওয়ার মাধ্যমে ‘হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্রের’ রাজনীতিকে ‘মদদ’ দেওয়া হয়েছিল।

পৃথিবীর কোথায় খুনিদের পুরস্কৃত করা হয়- এ প্রশ্ন করে তিনি বলেন, “তাদেরকে পুরস্কৃত করেছিল জিয়াউর রহমান। আর রাষ্ট্রপতির পদে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দিয়েছিল জেনারেল এরশাদ। আর খালেদা জিয়া ১৯৯৬ সালে ১৫ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে খালেদা জিয়া ওই খুনিদের বসিয়েছিল বিরোধীদলে খালেদা জিয়া। এভাবেই তারা হত্যা, ষড়যন্ত্র, খুনকে মদদ দিয়েছিল।”

অনুষ্ঠানে জঙ্গিবাদ নিয়েও কথা বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, “নতুন একটা উৎপাত শুরু করেছে, এখন জঙ্গিবাদ সন্ত্রাস। সেটাও এদেরই সৃষ্টি। কারণ যখনই যে ধরা পড়ছে তাদের গোড়ায় যদি যাওয়া যায়, যারা এদেশের স্বাধীনতা বিরোধী, মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী তাদেরই সৃষ্ট বা তাদেরই দোসর।”

দেশবাসীর আরো সহযোগিতা ও সতর্কতা দরকার মন্তব্য করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে কোন জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস-খুনিদের স্থান হবে না।”

 আওয়ামী লীগ সভানেত্রী আরো বলেন, ‘ইউরোপ, আমেরিকা, ইংল্যান্ড এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে এ ধরনের ঘটনা না ঘটছে। বাংলাদেশে আমরা এটুকু বলতে পারি যে, তাদের থেকেও ত্বরিৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে যখন যেখানে যেটা ঘটছে আমরা কিন্তু সেটা মোকাবিলা করতে সক্ষম, সেটা আমরা প্রমাণ করেছি। এজন্য দেশবাসীর আরো সহযোগিতা দরকার। দেশবাসীর আরো সতর্কতা দরকার এবং আশপাশে কে কোথায় আছে তার তথ্য চাই।’

পরে কৃষক লীগের নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় তাদের এই মহৎ উদ্যোগে এগিয়ে আসার জন্য ধন্যবাদ দেন।

মন্তব্য :



প্রকাশক: মোহাম্মদ কামরুজ্জামান,সম্পাদক: খায়রুল হাসান

নির্বাহী সম্পাদক: ইকবাল হোসেন ভূইয়া

বার্তা সম্পাদক: মোঃ সালেহ আকরাম (মেরিন)

যোগাযোগ: 54/1, নদ্দা-বারিধারা, গুলশান, ঢাকা-1212

 ফোন:02-8419040-41, মোবাইল: +88 01723 204846

ইমেল: crimeflashbd@gmail.com